তরুণদের উদ্দেশ্যে তামাকের আগ্রাসী বিজ্ঞাপণ প্রচার করছে তামাক কোম্পানিগুলো
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি বয়সে তরুণ। দীর্ঘ মেয়াদে তামাকের ভোক্তা তৈরীতে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘণ করে তামাকজাত পণ্যের আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছে তামাক কোম্পানিগুলো। সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যহত রাখলেও তামাক কোম্পানিগুলো আইন লঙ্ঘণ করে জনগণকে তামাকজাত দ্রব্য সেবনে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। তাদের মুনাফার বলি হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ ও নানান বয়সের জনগণ। “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ” বাস্তবায়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরী।
 
২০ মার্চ ২০১৯ ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চেীধুরী সম্মেলন কক্ষে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এর উদ্যোগে “National Level Workshop on Implementation of Tobacco Control Law & TAPS Ban”  শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
 
দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি’র সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস বাংলাদেশ এর হেড অব প্রোগ্রামস্ মো. শফিকুল ইসলাম। দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন।
 
কর্মশালায় “তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধে একটি সমীক্ষা” শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অর্ক ফাউন্ডেশনের রিসার্চ এসোসিয়েট তারানা ফেরদৌস গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। কর্মশালায় উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট’র নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
 
কর্মশালার সমাপনী পর্বে অতিথি ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল’র সমন্বয়কারী মো. খলিলুর রহমান, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও তামাক বিরোধী জোট’র উপদেষ্ঠা আবু নাসের খান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক ও দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
 
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাগুলোকে তামাক নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম গতিশীলকরণে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে তামাক নিয়ন্ত্রণে আমাদের অর্জন আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে জাতীয় এবং মাঠ পর্যায়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
 
আলোচক ও অংশগ্রহণকারীগণ কর্মশালায় নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন:
    • তামাক কোম্পানীতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও বিএটিবি’র পরিচালনা পর্ষদে সরকারী প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাহার
    • তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সরকারী কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের জানার পরিধি বাড়ানো,
    • ধূমপানমুক্ত সাইনসহ আইনের জরুরী ধারার শাস্তিসমূহ উল্লেখপূর্বক প্রচার ও জনসম্মুখে প্রচার করা,
    • তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কর্তৃত্বপ্রাপ্তদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জেলা/উপজেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটি সক্রিয় করা, আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা,
    • তামাক পণ্য বিপণণে লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করা,
    • জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল’র লোকবল বৃদ্ধি, প্রকাশনা ও বিলবোর্ডে প্রচারের মাধ্যমে তামাক বিরোধী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অন্তত ১৩০জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।